
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাজধানীর গোপীবাগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক পদযাত্রা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎখাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবিতে এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।
সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। এরপর বাসায় এনে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই খবর পেয়েছেন, গতকাল রাতে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাত ৩টায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হতে পারে না বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচন কমিশন সিটি কর্পোরেশনের অনেকগুলো মেয়র নির্বাচন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন যে, আমি খুব সন্তুষ্ট এ নির্বাচন নিয়ে। কিভাবে সন্তুষ্ট? বরিশালে যিনি প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই পীর সাহেবের ছেলে মাওলানা ফয়জুল করীম। আলেম মানুষ তাকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। এতো ব্যর্থ আপনারা যে, একজন মেয়র প্রার্থী সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম মানুষ তাকে পর্যন্ত নিরাপত্তা দিতে পারেন না। আর আপনারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে! কি? পারবে? পারবে না। আমরা অনেক দেখেছি।
মাওলানা ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিদ্যুতের টাকা দেই। আমি উত্তরায় ছিলাম, সেখানে আগে বিদ্যুৎ কিনতে হবে তারপর ব্যবহার করতে হবে, প্রিপেইড সিস্টেম। যেই ১০০০ টাকা ভরে বিদ্যুতের কার্ড ঢুকালাম ওমনিতেই ৩শ টাকা নাই। কোথায় গেলো? ওই হাসিনা সরকারের ঘরে চলে গেছে। আজকে বিদ্যুৎ সেক্টরে ১০ জন মানুষকে চিহ্নিত করেছে সাংবাদিক। এ ১০ জনের কাছে গোটা বিদ্যুৎখাত জিম্মি এবং বেশিরভাগ টাকা বিদেশে পাচার করে পাঠিয়েছেন। একবছরে আমাদের ৭৮ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি ট্যাক্স দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নীতির কারণে পাচার করা টাকা বিদেশে রাখা নিরাপদ নয় বলে সেই টাকা দেশে ফেরত আনার জন্য বাজেটে আড়াই শতাংশ ইনেসেনটিভ দেওয়ায় সরকারের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, আসুন না নির্বাচনে, কার কত শক্তি দেখি। আরে আপনারা আসুন না মাঠে, গদিটা ছেড়ে আসুন। ওই যে পুলিশ-টুলিশ, প্রশাসন ছেড়ে আসুন। আজ সত্যিকার অর্থে একটা নির্বাচন হোক, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন, তারপর দেখেন কার কত শক্তি। জনগণের শক্তি যদি দেখতে হয় তাহলে অবশ্যই একটা সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, মীর সরাফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা
এদিকে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সোমবার রাতেই কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বরাবরের মতো তার গৃহকর্মী ফাতেমাসহ দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হাসপাতালে আছেন।