
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ মায়ানমারে সামরিক অভ্যূত্থান হয়ে গেলো গত সোমবার। অং সান সূচি সহ অনেক নেতৃবৃন্দ কারাবন্দী হয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে মায়ানমারে এখন কি হচ্ছে? গতকাল সামরিক জান্তা মায়ানমারে ফেইসবুকের ব্যাবহার বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনিতেই দেশটিতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কার্য্যক্রম নিয়ন্ত্রিত। ফেইসবুক জনমানুষের কথা বলার এবং যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে কাজ করছিলো, সেটাও তারা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নাগরিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে সংসদ সদস্যরা রাজধানীতে তাদের তাদের অবস্থান ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ইয়াঙ্গুনে কিছু কিছু জায়গায় ঘরে ঘরে হাড়ি পাতিলে শব্দ করে প্রতিবাদের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
সামরিক বাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থানের পর ১১ সদস্যের একটি মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানায় যে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক প্রতারণা করা হয়েছে- যদিও দেশটির নির্বাচন কমিশন বলেছে যে এই ধরনের দাবি সমর্থন করার কোনও প্রমাণ নেই। নির্বাচিত বেসামরিক নেতা অং সান সু চি সহ রাষ্ট্রপতি উইন মিন্টকে আটক করা হয়েছে এবং বুধবার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এদিকে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস ইতিমধ্যে মিয়ানমারে সাংবিধানিক ব্যাবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নির্বাচনের ফলাফল এবং জনগণের ইচ্ছাকে অমান্য করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য”। সিকিউরিটি কাউন্সিল “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং অং সান সু চিকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়। ১৫ সদস্যের এই কাউন্সিল এক বিবৃতিতে, “মিয়ানমারে দ্রুত গণতান্ত্রিক উত্তরণে অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়”। তবে চীনের প্রতিবাদের কারণে সিকিউরিটি কাউন্সিল নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদানের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি । পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের একটি হিসাবে – চীনের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
বেইজিং দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক তদন্ত থেকে মায়ানমারকে সুরক্ষায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে, এবং অভ্যুত্থানের পর সতর্ক করে দিয়েছে যে কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা বা আন্তর্জাতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেবে। রাশিয়াও মায়ানমারের পাশে থেকে, মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগনের উপর সামরিক বাহিনীর অত্যাচাচার নিয়ে জাতিসংঘের কোন রকম ব্যাবস্থা গ্রহণ থেকে বারবার মিয়ানমারকে রক্ষা করেছে।
সংবাদ সূত্রঃ বি বি সি