আমেরিকার চাপের মুখে ইরান নতি স্বীকার করবেনা- ইমাম খামেনির দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যাক্ত

আইরিশ বাংলা পোষ্ট ডেস্কঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পুনরায় বলেছেন যে নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের বিনিময়ে ইরান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।গতকাল রবিবার পারস্য বছরের শুরু উপলক্ষে এক ঘণ্টার বেশী দীর্ঘ টেলিভিশনে প্রদত্ত এক ভাষণে ইমাম খামেনি বলেন, পুর্ববর্তি বোকা প্রেসিডেন্ট দ্বারা সংগঠিত “বড় অপরাধ”; অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার “সর্বাধিক চাপ” ব্যার্ত্থতায় পর্য্যবসিত হয়েছে। 

খামেনি বলেন, “তিনি [ট্রাম্প] অসম্মানিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, নিজের দেশের জন্যে বয়ে এনেছেন লাঞ্ছনা আর অসম্মান। তাদের অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে “সর্বোচ্চ চাপ’ এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসন যদি এই অবস্থা চালিয়ে যেতে চায় তবে তাও ব্যর্থ হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে, বিশ্ব শক্তির সাথে করা ইরানের চুক্তি একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে বলেছিলেন যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হলে ইরানকে অবশ্যই এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

জো বাইডেন প্রশাসন বলেছে যে, তারা “জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জিসিপিওএ) পুনরুদ্ধার করতে চায়, তবে নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রত্যাহারের আগে প্রথমে ইরানকে এই চুক্তির সকল শর্তসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমেরিকা এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার এক বছরের মাথায় ২০১৯ সালে ইরান এই চুক্তির বন্ধনকে ধীরে ধীরে শিথিল করে দিয়েছে।

খামেনি বলেন, এব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, এর পর ইরান অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নতুন সেন্ট্রিফিউজের ক্যাসকেড ইনস্টল করার জন্য তার পদক্ষেপগুলি প্রত্যাহার করবে।

তিনি বলেন, বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরান আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও জার্মানির সাথে একমত হয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন করেছিলো, যেহেতু আমেরিকা তার সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছিল। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে। এই অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তিতে ফিরে আসার কোন কারণ তিনি দেখছেন না, বিশেষ করে যখন আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছে। 

খামেনি বলেন, আমাদের নূতন শ্লোগান হচ্ছে “উৎপাদন, সহায়তা এবং বাঁধা অপসারণ”। এই মাসের শুরুতে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত ওয়েন্ডি শেরম্যান জে সি পি ও এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে “পৃথিবীর অনেক কিছু বদলেছে, এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলেছে, এবং এগিয়ে যাওয়ার পথও একইভাবে বদলাতে হবে”। ইমাম খামেনি এই বক্তব্যের উত্তরে বলেন, “আমিও মনে করি, হ্যাঁ। পরিস্থিতি বদলেছে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইরানের পক্ষে বদলেছে। সুতরাং যদি কিছু হয় তাহলে জিসিপিওএ অবশ্যই ইরানের পক্ষে পরিবর্তন করতে হবে।”

তথ্যসূত্রঃ আল জাজিরা

SHARE THIS ARTICLE