
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ অবশেষে গুঞ্জন সত্যি হলো। নায়িকা মাহির সংসারে ভাঙন দেখা দিল। নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেই খবরটি জানালেন মাহিয়া মাহি। তবে ঠিক কবে এবং কী কারণে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানাননি এ নায়িকা।
শনিবার (২২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাহি তার ফেসবুকে লেখেন, ‘এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষটার সাথে থাকতে না পারাটা অনেক বড় ব্যর্থতা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শ্বশুর বাড়ির মানুষগুলোকে আর কাছ থেকে না দেখতে পাওয়াটা, বাবার মুখ থেকে মা জননী, বড় বাবার মুখ থেকে সুনামাই শোনার অধিকার হারিয়ে ফেলাটা সবচেয়ে বড় অপারগতা। আমাকে মাফ করে দিও। তোমরা ভালো থেক। আমি তোমাদের আজীবন মিস করব।’
স্ট্যাটাসের সত্যতা যাচাই করতে রোববার (২৩ মে) সকালে মাহির ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন করে পাওয়া যায়নি তাকে।
তবে শনিবার রাতে দেশীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে মাহি বলেন, ‘বিষয়টি সত্যি। তবে অনুরোধ করব নেতিবাচক কিছু না লেখার। আমি চাই পরস্পরের সম্মানবোধটা বাঁচুক।’
২০১৬ সালে জমকালো আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছিলেন মাহি। সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন মাহি। গেল কয়েক বছরে একাধিকবার বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল মাহির। যদিও সেগুলো উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অপুর সাথে ফেসবুকে ছবি-স্ট্যাটাস, শ্বশুর বাড়ি ঘুরতে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন নিজের ফেসবুকে। তা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল মাহির সংসার ভালো চলছে। কিন্তু হঠাৎ সেখানে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠল। মাহিও কিছুদিন ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।
শনিবার (২১ মে) একটি স্ট্যাটাসে মাহি লেখেন, ‘কখনো সম্পর্কের চেয়ে আত্মসম্মান বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’
তার আগে ১২ মে অপুর সাথে দুটি ছবি শেয়ার করে মাহি লেখেন, ‘গত ৮৬৪০০ মিনিট ধরে ভাবছি তোমাকে নিয়ে গুনে গুনে ৫১টা লাইন লিখবো। কিন্তু কিভাবে যে লিখবো, ঠিক কোত্থেকে শুরু করবো সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। আচ্ছা আমি কি আর কোনোদিন গুছিয়ে কথা বলাটা শিখব না তাই না? তুমি তো আমাকে কিছুই শিখাতে পারলা না, এটা কি ঠিক?’
সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই কী বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরে অপু বলেন, ‘এটি আসলে টানাপোড়েনের কিছু না। স্বামী-স্ত্রীর সংসার, এখানে অনেক মানুষ জড়িত। আমার পরিবার, ওর পরিবার সব কিছু মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আলাদা হলেও পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকবে বলে জানান অপু। তার ভাষায়, ‘ডিভোর্স হলে কথা বলা যাবে না, দেখা করা যাবে না, এমনটা না। ওর সঙ্গে আমার বিভিন্ন বিষয়ে কথা হচ্ছে। আমরা চাই সুন্দর সম্পর্ক থাকুক। আত্মসম্মান এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গাটা অবশ্যই ঠিক থাকবে। মাহি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য যা করেছে, সে ঋণ আসলে শোধ করার মতো না।’