
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ মুখোমুখি লড়াই দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া এবং মরক্কো। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের আগেও দেখা হচ্ছে দুই দলের। আজ খলিফা স্টেডিয়ামে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে লড়বে তারা। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।
বড় স্বপ্ন আগলে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া-মরক্কো। যদিও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর সৌভাগ্য হয়নি কারোই। গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা। শুরুতে আশাহত হলেও আসরজুড়ে আলো ছড়িয়েছে দুই দল। খেলেছে সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। সেরা চারে ক্রোয়েশিয়াকে থামিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মরক্কোর স্বপ্নযাত্রার ইতি টানে ফ্রান্স। ভগ্ন হৃদয়ে তৃতীয় স্থান প্লে-অফে মুখোমুখি হবে হেরে যাওয়া দুই সেমিফাইনালিস্ট।
বিশ্বকাপে দলের শেষ ম্যাচের আগে ফিফা নিয়ম মেনেই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে হাজিরা দেন দুই কোচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা করার বিপরীতে ফাইনাল না খেলার আক্ষেপে পুড়ছেন তারা। মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেছেন, ‘বুঝতে পারছি যে চতুর্থ না হলে তৃতীয় হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আমরা ফাইনালে উঠতে পারিনি ,আমরা রোববার ফাইনাল খেলতে চেয়েছিলাম, আগামীকাল (আজ) খেলতে চাইনি।’
তবে শিষ্যদের নিয়ে গর্বের অন্ত নেই কোচের। মরক্কো কোচ বলেছেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের বলেছি এটা আমাদের সপ্তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। আপনি যদি কোনো মরক্কোর ভক্তকে বলেন যে আমরা ১৭ ডিসেম্বর আমাদের সপ্তম ম্যাচ খেলব, তারা গর্বিত হবে। মরক্কো ২০ বছরে ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছে। এখন আমরা এক মাসে ছয়টি ম্যাচ খেলেছি, এটা অমূল্য। মনে হচ্ছে আমরা দুটো বিশ্বকাপ বা তারও বেশি খেলেছি, এটা অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্দর।’

ইতিহাস বলছে, কখনোই ফল হয়নি ক্রোয়েশিয়া-মরক্কো ম্যাচে। দুই দল এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমবার ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে। সেবার ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা এবং চলতি টুর্নামেন্টে করে গোলশূন্য ড্র। এ যাত্রায় অবশ্য সেই সুযোগ থাকছে না। কেননা প্লে-অফে ফল আসবেই। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় হয়ে ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে। এমন লড়াই নিয়ে সতর্ক রেগ্রাগুই, ‘আমরা জানতাম ক্রোয়েশিয়া প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দল হতে চলেছে।’

মরক্কো কোচ যোগ করেন, ‘প্রথম খেলায় তাদের পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল। (গ্রুপ পর্বের) ওই ম্যাচে অনেক দ্বিধা ছিল। উভয় দলই শনিবার জিততে চাইবে এবং এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ হবে।’ সতর্ক থাকছেন জøাতকো দালিচও, ‘এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি আমাদের সপ্তম ম্যাচ। আমরা ক্লান্ত এবং নিঃশেষ হয়ে গেছি। দলে ইনজুরি আছে- গ্যাভার্দিওল, জুরানোভিচ, ব্রোজোভিচ। দেখা যাক কী হয়। কিছু না কিছু তো সবসময় ঘটে। তাই আমরা সতর্ক থাকব।’

বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে লড়বে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সংস্করণেও সেমিফাইনালে হেরেছিল ক্রোয়াটরা। পরে আসর শেষ করেছিল তৃতীয় হয়ে। সেই প্রসঙ্গ সামনে তুলে ক্রোয়াট কোচ বলেন, ‘১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়া প্রথম পদক পেয়েছিল। তখন আমরা কেবলমাত্র স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। তাই ওই অর্জন একটি উজ্জ্বল সময়ের সূচনা ছিল। এখন বিষয়টা ভিন্ন। আমরা একটি রৌপ্য পদক জিতেছি এবং আরও কিছু করেছি।’

দালিচ যোগ করেন, ‘এই বিশ্বকাপের অর্থ অনেক এবং আমরা চাই আমাদের মানুষ আমাদের নিয়ে গর্ব করুক। ১৯৯৮ সালও গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ ওটা ছিল প্রথম। আগামীকালও একই অর্জন সম্ভব। আমি আশা করি যে আমরা চার বছর আগে যা অর্জন করেছি তার পুনরাবৃত্তি করব। আমরা একটি ছোট দেশ কিন্তু আমরা অনেক কিছু অর্জন করি।’