
আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্ক: সমালোচনা ছাপিয়ে আবারও চাঙ্গা ভার্চুয়াল ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন। চলতি বছরের ১৫ মে’র পর আবারও ৫০ হাজার ডলারের ওপরে উঠেছে ১ বিটকয়েনের দাম। বেড়েছে অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়াম আর ডগকয়েনের দামও।
ভার্চুয়াল কারেন্সিতে বিনিয়োগ চলছে কয়েকবছর ধরেই। বারবারই এ বাজারে ধ্বস নামছে, আবারো স্থিতিশীল হচ্ছে। অবশেষে ধীরে ধীরে মন্দার কবল থেকে বেরিয়ে আসছে ভার্চুয়াল মুদ্রা বিটকয়েন। কয়েক মাসের খারাপ অবস্থা কাটিয়ে ৫০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে এ মুদ্রার দাম। গত মে মাসের পর এবারই প্রথম বিটকয়েনের দাম ৫০ হাজারের কোটা ছাড়াল।
কয়েনডেস্কের তথ্য বলছে, রোববার (২২ আগস্ট) লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ছিল বিটকয়েনের দাম। মূলত মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েনকে স্বীকৃতি দেওয়ায় এ ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।
শুধু বিটকয়েন না, ইথেরিয়াম, লাইটকয়েন ও বিটকয়েন ক্যাশকেও যুক্তরাজ্যের বাজারে কেনাকাটার স্বীকৃতি দিয়েছে পেপ্যাল। যুক্তরাজ্যের মানুষ পেপ্যালের অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনুমোদিত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারবেন।
পেপ্যাল জানিয়েছে, শিগগিরিই তাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেনের জন্য আলাদা ট্যাব খোলা হবে। যেখানে এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার রিয়েল-টাইম দামও দেখা যাবে।
গেল কয়েক মাস ধরে অস্থির ছিলো ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার। এর আগে এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওঠে এক বিটকয়েনের দাম। এরপর জুনে ২৮ হাজার ডলারে নেমে যায় এই ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য। ডিজিটাল কারেন্সি নিয়ে চীনের নেতিবাচক নানা পদক্ষেপের কারণে পড়ে যায় বিটকয়েনের দাম। কয়েক সপ্তাহ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারে ঘুড়পাক খায় ১ বিটকয়েনের দাম।
জুলাইতে অ্যামাজন ঘোষণা দেয় ডিজিটাল কারেন্সিতে চাকরি দেবে তারা। এরপর কিছুটা চাঙ্গা হয় বিটকয়েনের বাজার। টেসলা প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আর টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি বিটকয়েন নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার পর আরো চাঙ্গা হয় বিটকয়েনের বাজার।
২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে কোন এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করে যা পিয়ার-টু-পিয়ার মুদ্রা বলে অভিহিত হয়। বিটকয়েনের লেনদেন হয় প্রেরক থেকে সরাসরি প্রাপকের কম্পিউটারে অনলাইনের ভিত্তিতে। এই লেনদেনগুলি সত্যায়িত করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে লিপিবদ্ধ করা হয় একটি খতিয়ানে। এই উন্মুক্ত খতিয়ানকে ব্লকচেইন বলা হয়। বিটকয়েন উৎপাদিত হয় মাইনিং এর মাধ্যমে যেখানে কম্পিউটারের প্রসেসিং ক্ষমতার ভিত্তিতে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয়।