ইউরো গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সাল শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া।

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ইউরো গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সাল শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া। দেশটি গতকাল নতুন বছরের প্রথম প্রহরে (মধ্যরাতে) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ক্রোয়েশিয়ার আশপাশের রাস্তায় নতুন বছর উদযাপন করার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাভর বজিনোভিচ স্লোভেনিয়ার সঙ্গে ব্রেগানা সীমান্তপথে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্বের বৃহত্তম পাসপোর্টমুক্ত অঞ্চলে যোগদানের জন্য কয়েক ডজন সীমান্ত চেক পয়েন্ট সরিয়ে দেয়া হয়। খবর এপি।

ক্রোয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর রাজধানী জাগ্রেবের একটি এটিএমে গিয়ে ইউরো নোট প্রত্যাহার করে ক্রোয়েশিয়ার পুরনো মুদ্রা কুনাকে প্রতীকীভাবে ইতিহাসের পাতায় ফেলে দেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রোয়েশিয়ান কুনা ও ইউরো দ্বৈতভাবে আরো দুই সপ্তাহ ব্যবহার করা যাবে। এর পর থেকে লেনদেনে এককভাবে ব্যবহার হবে ইউরো মুদ্রা।

ক্রোয়েশিয়া ২০১৩ সালে ইইউতে যোগ দেয়। ইউরো গ্রহণের জন্য দেশটিকে একটি স্থিতিশীল বিনিময় হার, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতিসহ একটি কঠোর অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করতে হয়েছিল। এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ৪০ লাখ জনসংখ্যার বলকান রাষ্ট্র ক্রোয়েশিয়ার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। শুভ সূচনা চিহ্নিত হয়েছে। তিন দশক আগেও দেশটি একটি নিষ্ঠুর যুদ্ধের স্থান হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ছিল, যা দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস করে দিয়েছিল।

ইউরোপের আইডি চেকমুক্ত শেনজেন অঞ্চলে যোগদান করায় ক্রোয়েশীয়রা এখন ইইউর প্রায় ৪২ কোটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে অঞ্চলটিতে পাসপোর্ট ছাড়াই ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে অবাধে ঘোরাফেরা করতে পারবে তারা। ইউরো গ্রহণের ফলে ক্রোয়েশিয়াও ইউরোভুক্ত ১৯টি সদস্য দেশের সঙ্গে ভালোভাবে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এছাড়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় ধরনের আর্থিক সম্পর্কের সুবিধা পাবে। ফলে ক্রোয়েশিয়ায় ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য মুদ্রা বিনিময়ের ঝামেলা দূর করে ভ্রমণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করে তুলবে।

স্লোভেনিয়া ২০০৭ সাল থেকে শেনজেন অঞ্চলের অংশ এবং এর বহিঃসীমা রক্ষার দায়িত্বে ছিল। ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে স্লোভেনিয়া এতদিন ইইউর সীমান্ত রক্ষা করত। ইইউতে যুক্ত হওয়ায় এ অংশের সীমান্তের দায়িত্ব এখন ক্রোয়েশিয়ার। প্রতিবেশী দেশ বসনিয়া, সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর সঙ্গে পূর্ব সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতে হবে দেশটির।

SHARE THIS ARTICLE