
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২২ । ৩৮তম এই মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে ডাঃ জিন্নুরাইন জায়গীরদারের দুটি বই “বর্ণমিছিল” ও “সমাজ সংকটে”। প্রকাশনা করেছে বর্ষাদুপুর প্রকাশনী।
ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী “বর্ণমিছিল” বইটি। আর আমাদের সমাজের নানা অনিয়ম, অবিচার, দুর্নীতি, অন্যায় নিয়ে “সমাজ সংকটে” বইটি সাজানো হয়েছে।
জিন্নুরাইন জায়গীরদার পেশায় একজন চিকিৎসক। সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে থেকে এম বি বি এস পাশ করে, আই পি জি এম এন্ড আর এ কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এনেসথেশিয়া (অবেদন ও অচেতনতা) বিষয়ে ডিপ্লোমা, এফ সি পি এস, এম ডি ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৯৭ সালে চলে যান সৌদি আরব, এরপর ২০০৩ সালে আসেন প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডে। উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এফ সি এ ডিগ্রী করেন, বিশেষ ফেলোশিপ করেন হেপাটোবিলিয়ারি এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এনেসথেশিয়া বিষয়ে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের কনোলি হাসপাতালে কাজ করছেন, এনেসথেশিয়া (অবেদন ও অচেতনতা) এবং ইনটেনসিভ কেয়ারের (নিবিড় পরিচর্য্যা) কনসালটেন্ট হিসাবে।

সমাজসেবা তার বিশেষ ভালোবাসার অঙ্গন। দেশে তিনি স্কাউট, রোভার স্কাউট, লিও ক্লাব, লায়ন্স ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রবাসে এম এস সি ডিগ্রি নেন লিডারশীপ উন্নয়ন বিষয়ে। অল বাংলাদেশী এসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, ইউরোপের ৩০টি দেশের বাংলাদেশীদের শীর্ষ কমিউনিটি সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইউরো বাংলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা। আইরিশ বাংলাপোষ্ট নামে ওয়েব ভিত্তিক পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি।
শৈশব থেকেই লেখালেখি করেন তিনি। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের ফাকে ফাকে সমাজের নানান দিক নিয়ে কবিতা, কলাম, প্রবন্ধ, ব্লগে ও ফেসবুকে লিখে চলেছেন। অমর একুশে বইমেলা, ২০২১ সালে তার প্রকাশিত কবিতার দুটি বই হচ্ছে “বিশ্বাসের মৃত্যু” এবং “স্বাধীনতা আমার”।
আশপাশের মানুষের জীবন, সমাজ ব্যবস্থা, দুর্নীতি, জুলুম-অত্যাচার, অনিয়ম, অসমতা তাকে ভীষণ ভাবায়। তাই পরিবার, সমাজ, দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে কখনো গদ্যে কিংবা কখনো ছন্দে লিখে চলেছেন জীবনের কথা, চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের মেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাঁর তৃতীয় ও চতুর্থ বই।
কবি সমাজ সংকটে বইটিতে ভুমিকায় যা লিখেছেন তা আমাদের জীবনকে নিঃ সন্দেহে পরিবর্তন করতে সহয়তা করবে। তিনি তার ভূমিকায় লিখেন-
”মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজকে কেন্দ্র করেই আমাদের সকল কর্মযজ্ঞ। প্রত্যেক মানুষ একে অপরের কল্যাণের কথা ভেবে সাধ্য মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিয়ম ও শৃঙ্খলার অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাস করলে সেটা হয় সুস্থ সমাজ। এই সমাজকে সুস্থ রাখা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি ব্যক্তির, পরিবারের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের অন্যতম দায়বদ্ধতা। সমাজে ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, সহায়–সম্বলহীন নানা রকম মানুষের বাস। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হলো সমাজসেবা। কিন্তু আজ এই সমাজ নিমজ্জিত হয়েছে অবক্ষয়ের করাল গ্রাসে, ধর্ম হয়ে গেছে স্বার্থের একটি হাতিয়ার। রাজনীতিতে ক্রমাগত ছন্দপতন আমাদের সমাজের অগ্রসরের অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজে এসবের গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই আমাদের চিন্তার পরিবর্তন জরুরি।
সমাজের দিকে তাকালে প্রতিনিয়ত আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, যা অত্যন্ত বেদনার। সাম্য হারিয়েছে তার পথ। বিচারব্যাবস্থা আস্থা হারিয়ে হয়ে গেছে পঙ্গু। দুর্নীতি, কুসংস্কার, বৈষম্য ও অবমূল্যায়ন আমাদের সমাজে সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষত। শিক্ষিত, মেধাবী ও সৎ লোক নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও অনাকাংখিত সাম্যহীন রাষ্ট্রব্যাবস্থা, মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্থ এবং পেশী শক্তিধারীদের নেতৃত্বের পতাকাবাহী করে দিয়েছে। মেধাবীরা দলীয় সংকীর্নতার আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। এই সমাজ নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে সমাজ নিয়ে, স্বপ্ন জাগাতে হবে।

একটি সমাজে ধনী–গরিব নির্বিশেষে সব রকম মানুষের বাস। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো, যারা শক্তির পূজারি, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত যারা, তারা সব রকম সুযোগ–সুবিধা ভোগ করছে কিন্তু যারা গরিব, সৎ, এবং নীতির ধারক তারা ভাগ্যের দোহাই দিয়ে দুঃখ কষ্টের কঠিন জীবনকেই মেনে নিচ্ছে। স্বার্থকেন্দ্রিক বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো সুখ নেই। এতে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে ঘিরে আত্মকেন্দ্রিকতার এক সংকীর্ণ গণ্ডি গড়ে ওঠে। প্রকৃত সুখ রয়েছে সমাজের জন্য, দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করে বাঁচার মধ্যে। একজন মানুষ সঠিক শিক্ষা গ্রহণ না করলে তার প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে। সে কারণে আমাদের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
সমাজ নিয়ে ভাবনার বয়স লাগে না, প্রয়োজন চিন্তা ও মানসিকতা। শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকলে সমাজের কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভাবতে হবে চারপাশের মানুষ নিয়ে। পরিবর্তন ছাড়া সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের সবার মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ জাগাতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধই পারে সমাজের রূপ বদলে দিতে। আমি এই পুস্তকে মূলতঃ সমাজের হতাশার চিত্রকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
নেতিবাচক পরিবর্তন, দুর্নীতি, অসাধুতা, বিচারহীনতা, একপেশে সাংবাদিকতা, পেশীশক্তির লাগামহীন দৌরাত্ন এসবই ছিল ছিল আমার উপজীব্য। আমার চারিদিকে প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বৈসাদৃশ্য, সংবাদের সৌজন্যহীনতার প্রতিক্রিয়ার শৈল্পিক প্রকাশকে আমি এক গুচ্ছ কবিতায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। রাজনীতির লাগামহীনতা, বিবর্জিত নৈতিকতা আর দুর্নীতির অস্বাভাবিক বিকাশকে আমি আমার রচনায় প্রকাশ করার প্রয়াস করেছি।”