
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ওমিক্রন ঠেকাতে ১৬ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদশ সরকার। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার এবং বাড়ির বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ছবি: টাইমস লাইভ
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে দেশব্যাপী ১৬টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার এবং বাড়ির বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।
নির্দেশনাসমূহ হচ্ছে :
•ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।
•সব ধরনের (সামাজিক/ রাজনৈতিক/ ধর্মীয়/ অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।
• প্রত্যেককে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
•রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে।
•সব ধরনের জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/ থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।
•মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।
•গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।
•আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।
•সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।
•সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতা, সেবাপ্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।
•যারা এখনো কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ করেননি টিকাকেন্দ্র গিয়ে তাদের কোভিড-১৯ এর ১ম ও ২য় ডোজ নিতে হবে।
•করোনা উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজিটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
•কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।
•অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
•টিকা নেয়া থাকলেও বাইরে বের হলে অবশ্য মাস্ক পরতে হবে।
•কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসের উদ্দেশ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/ মন্দির/ গির্জা/প্যাগোডা এর মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
এসব নির্দেশনা দেশব্যাপী কঠোরভাবে পালনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এছাড়া একই সময়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭৫, যা ৮৯ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রন আক্রান্ত ১০ জন শনাক্ত হয়েছে।