দিরিলিস আর্তুগ্রুলের বিশ্বজয় এবং তুরস্কের উত্থান

সামির রূহানীঃ বর্তমান বিশ্বে তুরস্কের মহামান্য প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তার সামরিক শক্তি এবং কুটনৈতিক দক্ষতার জোরে তুরস্ককে নতুন বিশ্বের এক পরাক্রমশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছেন মুসলিম জাহানের একচ্ছত্র বাদশাহ রূপে যার এক কথাতে সবাই জান কোরবান করতে প্রস্তুত থাকে । উদাহরণ হিসাবে আপনারা দেখতে পারেন তার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের ষড়যন্ত্রমূলক সামরিক অভ্যুত্থান রুখে দিতে তরুন প্রজন্ম জীবনের পরোয়া না করে কিভাবে মাঝ রাতে রাস্তায় নেমে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও ট্যাঙ্কারের সামনে নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিলো । তিনিই একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র নেতা যিনি ইসলামের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের শেকড়ের সন্ধান করে সেই শেকড় সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছেন ।

আর এই যুদ্ধ হচ্ছে সিলভার স্ক্রিনের সাথে সিলভার স্ক্রিনের এবং তথাকথিত সমস্ত পশ্চিমা রাজনৈতিক উস্কানি দাতা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার স্ক্রিপ্টেড মিথ্যা মনগড়া সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে । তিনি খুব ভালো ভাবে অনুভব করেছেন ইসলামের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মানুষের ব্রেন ওয়াশ করছে হলিউড বলিউড সহ পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদ সংস্থারা । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বর্তমান প্রজন্ম বা নতুন বিশ্ব আর ইতিহাস পড়ে না । তারা ভিজুয়াল যা কিছু দেখে সেটাই সত্য বলে বিশ্বাস করে নেয় ।

আর তাই তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠা করলেন TRT এবং TRT World নামের আন্তর্জাতিক মানের সংবাদ সংস্থা ও স্যাটেলাইট চ্যানেল । এই চ্যানেল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা অফিস অপেন করে ঠিক একই ভাবে কাজ করছে যেভাবে সারা বিশ্বে আল জাজিরা বিবিসি সিএনএন ডয়েচ ভেলে তাদের কাজ করে যাচ্ছে । পার্থক্য হচ্ছে TRT এবং TRT World বিশ্বের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য্য মাধুর্য শক্তি সামর্থ্য উদারতা মহানুভবতা আর পর্দার অন্তরালের সত্য ঘটনা উপস্থাপন করে থাকে । তারা খ্রিস্টান ইহুদী বৌদ্ধ সবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ক্রাইম গনহত্যা যুদ্ধের উস্কানি বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র সবকিছু প্রকাশ করে যেটা পশ্চিমা গনমাধ্যম প্রচার করে না ।

File:Ertuğrul Gazi mezarı.jpg - Wikimedia Commons

আপনারা হয়তো জানেন না যে ইউরোপ আমেরিকা মহাদেশে সারা বছর যত ক্রাইম হয় তার 93 % – 97 % অপরাধ সংঘটিত করে থাকে ইহুদী খ্রিস্টান ও নাস্তিক সম্প্রদায়ের শ্বেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গরা যেখানে মাত্র কয়েক পার্সেন্ট অপরাধের সাথে মুসলিমরা জড়িত থাকে অথচ এই সামান্য কয়েক শতাংশই বারবার হাইলাইটস করা হয় ইসলামকে বদনাম করার জন্য । পশ্চিমা বিশ্বের ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করার জন্য আজ অবৈধ ভাবে ক্ষমতার জোরে উইকিলিকসের জুলিয়ান এসাঞ্জ অন্ধকার কারাগারে আর সিআইএর এজেন্ট এডওয়ার্ড স্নোডেন হয়েছেন দেশ ছাড়া । ইতিহাস সাক্ষী যে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত বড়ো বড়ো ক্রাইম গনহত্যা ষড়যন্ত্র যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে তার সবকিছুই করেছে ইহুদী ক্রুসেডার বৌদ্ধ আর পৌত্তলিকরা যেখানে মুসলিমরা ছিলো নির্যাতিত নিপীড়িত এবং ষড়যন্ত্রের শিকার । তাই তারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে বাচার জন্য রুখে দাড়িয়েছে বারবার কিন্তু কখনোই মানুষের উপর অন্যায় ভাবে নির্যাতনের ইতিহাস নাই । এরপর তিনি বিশ্বের মানুষের চোখের সামনে থেকে হলিউড বলিউডের মিথ্যাচারের পর্দা সরানোর জন্য নির্মাণ করলেন ঐতিহাসিক বিখ্যাত ” দিরিলিস আর্তুগ্রুল ” পায়িতাহাত সুলতান আব্দুল হামিদ ” উসমান ” সিরিজ বা মুভি ” ফাতেহ ” সহ আরো নামকরা সব সিনেমা যা আন্তর্জাতিক ভাবে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি করে যাচ্ছে ।

ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত নগরী ইস্তাম্বুল - banglanews24.com

তিনি বিশ্বকাপানো ঐতিহাসিক সিরিজ দিরিলিস আর্তুগ্রুল নির্মান করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রডিউসার – রাইটার – ডিরেক্টর মেহমেত বোজদাগ কে যিনি এখন উসমান সিরিজ নির্মানে ব্যস্ত আছেন । এদিকে উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আর্তুগ্রুল গাজীর চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ব জয় করার পর এবার সবার প্রিয় টার্কিস মেগাস্টার ইন্জিন আলতান দুজইয়াতান আবার সিলভার স্ক্রীনে ফিরে আসছেন আরেকটা ঐতিহাসিক দুর্ধর্ষ বীরের চরিত্র রূপায়ণ দিয়ে । এবার তিনি কার চরিত্রে জান ফেরাতে যাচ্ছেন সেটা জানার আগে আপনাদের আর্তুগ্রুল গাজীর কিছু বিশ্ব রেকর্ড সম্পর্কে জানা উচিত । দিরিলিস আর্তুগ্রুল বা আর্তুগ্রুলের উত্থান এই পর্যন্ত বিশ্বের 190 টা দেশে ডাবিং ও সাবটাইটেল করে প্রচার করা হয়েছে এবং তিনশো কোটি মানুষের উর্ধ্বে এই পর্যন্ত ইন্টারনেটে দেখেছেন যা সর্বকালের সেরা বিশ্ব রেকর্ড করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে । এছাড়া হলিউডের বা বিশ্বের সর্বকালের সেরা সব বিজনেস করা মুভি যেমন এভেন্জারস এবং এভেটারের সব বিজনেস রেকর্ড ভেঙে দিয়ে সারা বিশ্বে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে । এবং এই সিরিজ দেখে হাজারো মানুষ মুসলিম হয়েছে আর হচ্ছেন । তবে এই ঐতিহাসিক সিরিজের আসল উদ্দেশ্য অর্জন হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের বিরুদ্ধে নোংরা ষড়যন্ত্র সমূলে উপরে ফেলে ইসলামফোবিয়া ধবংস করে দেয়া । এর জন্য বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বাদশা সুলতান রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান তার সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন । তিনি নিজে শ্যুটিং দেখতে যেতেন । সময় করে নিয়মিত টেলিকাস্ট দেখতেন । হলিউড থেকে 200 টেকনিশিয়ান ক্রু ফাইট ডিরেক্টর হায়ার করে এনেছিলেন । তিনি ইতিহাস বিকৃত হতে দেন নাই যেটা সুলতান সুলেমানে করা হয়েছিলো । সেখানে মুসলিম সালতানাতের শাসকদের চরিত্র ইতিহাস বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছিলো । যার কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান সুলতান সুলেমান সিরিজ মুসলিমদের দেখতে নিষেধ করেছেন । এখন থেকে তিনি মুসলিম সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক সব মুভি সিরিজ নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন । প্রথমেই বলেছিলাম তিনি পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিমদের নিয়ে মিথ্যা অপবাদের বিরুদ্ধে সিলভার স্ক্রীনে যুদ্ধ শুরু করেছেন । এতদিন সিলভার স্ক্রিনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মগজ ধোলাই করা হয়েছে । তাই সুলতান এরদোয়ান এই সিলভার স্ক্রীনের মাধ্যমেই আবার মুসলিমদের হারানো ঐতিহ্য মর্যাদা ফিরিয়ে আনার মিশন স্টার্ট করেছেন । যার প্রথম ইন্সটলমেন্ট ছিলো আর্তুগ্রুল । হলিউডের বিখ্যাত সব প্রযেজোনা প্রতিষ্ঠান বা স্টুডিও এবং পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানরা সহ বিখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমস তুরস্কের এই ঐতিহাসিক দিরিলিস আর্তুগ্রুল সিরিজকে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের এটম বোমা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন ।

দিরিলিস আরতুগ্রুল যে কারণে আকাশচুম্বী দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে

সামনে আরো কিছু এটম বোমা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে । যার মাঝে ইতিমধ্যে আর্তুগ্রুলের সন্তান উসমান গাজীর সিরিজ প্রচার করা শুরু করেছে যার নামেই বিখ্যাত উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান হয়েছিলো । সামনের বছর বিশাল এক ধামাকা নিয়ে সিলভার স্ক্রিন কাপাতে আসছেন উসমানীয় সালতানাতের ঐতিহাসিক নৌ বাহিনীর প্রধান বিখ্যাত এডমিরাল ” হায়রেত্তিন পাশা ” যাকে ইতিহাসে সমুদ্রের বাদশা নামে অবহিত করা হয় এবং পশ্চিমা ও ইউরোপীয় সম্রাটরা যার নাম দিয়েছিলো ” বারবারোসা ” মানে লাল দাড়িওলা । তিনি ইউরোপীয় সমুদ্র সীমার সীমান্ত প্রধান হয়েছিলেন । তার মা একজন ইউরোপীয়ান খ্রিস্টান ছিলেন যার নাম ছিলো ক্যাটরিনা আর বাবা ছিলেন টার্কিস মুসলিম । সেই সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের এবং সমগ্র ইউরোপের শক্তিশালী রাজা ছিলেন প্রিন্স চার্লস পঞ্চম । এই পঞ্চম চার্লসের সাথে 1538 সালে হায়রেত্তিন পাশার বিখ্যাত এক যুদ্ধ হয় । যে যুদ্ধে বারবারোসা একাই চার্লসের 300 টা বিশাল বিশাল জাহাজ ধবংস করে দিয়ে সমগ্র ইউরোপের সমুদ্র সীমা জয় করে নিয়েছিলেন । ইতিহাসে পাতায় এই যুদ্ধ মুসলিম সালতানাতের ঐতিহাসিক বিজয়ের বিশ্ব রেকর্ড হিসাবে স্বর্ণাক্ষরে আজো লিখা আছে ।

বহির্বিশ্বে তুর্কি সামরিক উপস্থিতি: নব্য ওসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান? -  দৈনিক ঢাকা

অথচ পশ্চিমারা এতদিন এই মুসলিম বীর যোদ্ধা সমুদ্রের বাদশা খ্যাত বারবারোসাকে জলদস্যু হিসাবে বিভিন্ন মুভি সিরিজে অপপ্রচার করে এসেছে । তার জবাব হিসাবে বিশ্বের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এরদোয়ান নির্মাণ করছেন বারবারোসা সিরিজ । আমাদের প্রিয় মেগাস্টার ইন্জিন আলতান দুজইয়াতান তার জীবনের পাচ বছর দিয়েছেন আর্তুগ্রুল গাজী সিরিজের জন্য এবং একাধিক বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন । এবার তিনি আরেকবার ইতিহাস সৃষ্টি করতে এই বিখ্যাত হায়রেত্তিন পাশা সমুদ্রের বাদশা বারবারোসা হয়ে সিলভার স্ক্রিন কাপাতে ফিরে আসছেন আপনাদের মাঝে 2021 সালে । এতদিন সবাই আর্তুগ্রুল মানে ইন্জিন আলতান দুজইয়াতান’কে জমিন কাপিয়ে যুদ্ধ করতে দেখেছেন । এবার দেখবেন সমুদ্র কাপিয়ে যুদ্ধ করতে । যারা এখনো দিরিলিস আর্তুগ্রুল সিরিজ দেখেন নাই তাদের জন্মই বৃথা । সামনে হলিউড বলিউডের আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে আসছে । কারণ আমাদের ইসলামের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ এবং ঐশ্বর্য্যশীল শুকরিয়া আল্লাহ আলহামদূলিল্লাহ ।।।

SHARE THIS ARTICLE