ফেনী পৌরসভার বর্জ্যের আগুনে পুড়ে মরে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশের বৃক্ষ।

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ফেনী পৌরসভার রামপুরে শিল্প ও আবাসিক বর্জ্যের আগুনে পুড়ে মরে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশের বৃক্ষ। একের পর এক শতবর্ষী এসব গাছ মরে গেলেও ঘুম ভাঙছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মরে যাওয়া গাছগুলো যেকোনো সময় সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ফেনী পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সামাজিক বন বিভাগের দৃশ্যমান কোনো তত্পরতা না থাকায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিগগিরই সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, মরা গাছ কেটে সড়ক নিরাপদ এবং পরিবেশের ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এবং বিসিক এলাকায় শিল্প ও আবাসিক এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে হরহামেশা। এসব বর্জ্যের উত্কট গন্ধে আশপাশে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে প্রতিদিনই এসব বর্জ্যে আগুন দিচ্ছে স্থানীয়রা। এতে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত আগুনের ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এছাড়া সড়কের পাশের আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার দাড়িয়ে আছে অনেক শতবর্শী কড়ই গাছ। মরে গেছে ১৫-২০টি গাছ। পুড়ে মরে যাওয়া এসব গাছ ভেঙে পড়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনাসহ জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগুনের ধোঁয়া ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে পরিবেশের ক্ষতি, গাছ মরে যাওয়া ও প্রাণহানির শঙ্কা কেউ যেন দেখার নেই। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় স্থানীয় ও সচেতন মহলের মাঝে অসন্তোষ দেয়া দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের রামপুরে এবং চট্টগ্রামুখী লেনের বিসিক এলাকায় পরিবেশ আদালতের তত্পরতা ও কিছুদিনের প্রশাসনিক তত্পরতার পর ময়লা ও বর্জ্য ফেলা কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রামমুখী লেনের রামপুর সম্রাট ফ্লাওয়ার মিল ও কালীপালসংলগ্ন স্থানে দিন দিন বর্জ্য ফেলার হার বাড়ছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, এসব বর্জ্য আশপাশের আবাসিক এলাকা থেকে ফেনী পৌরসভার কর্মীরা ভ্যানগাড়ি করে সড়কের পাশে ফেলে চলে যান। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন পোলট্রিফার্ম ও কয়েকটি কারখানার বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে এখানে। নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে এলাকাটি ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।

পরিবেশ ক্লাব ফেনীর সভাপতি নজরুল বিন মাহমুদুল আইরিশ বাংলাপোষ্ট যেবলেন, দীর্ঘদিন মহাসড়কের পাশে অন্যায়ভাবে রাখা বর্জ্যে আগুন দিয়ে গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। সবার সামনে এসব হলেও সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষই যেন বিষয়টি দেখছে না। বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়সহ ফেনীর পরিবেশ আদালতে জমার নির্দেশনা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর চুপসে আছে। শিগগিরই সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করব।

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, ফেনী পৌর এলাকার বর্জ্য সুনির্দিষ্ট স্থানেই গাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে পৌরসভার বর্জ্য রাখার সুযোগ নেই। তার পরও আমরা বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

সামাজিক বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা তপন কুমার ভৌমিক জানান, মহাসড়কের পাশে আগুনে পুড়ে মরে যাওয়া গাছগুলো কাটার জন্য কয়েকবার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি। পুনরায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর পরিদর্শক ফাইজুল কবির আইরিশ বাংলাপোষ্টকে জানান, দীর্ঘদিন মহাসড়কের বিসিক থেকে মহিপাল এলাকা পর্যন্ত এবং রামপুর এলাকায় রাস্তায় পাশে কে বা কারা বর্জ্য ফেলে তাতে আগুন দিয়ে গাছ ধ্বংস ও পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছে। এসব বর্জ্য যে স্থান থেকে যে কেউ রাখুক না কেন, সেটি ফেনী পৌরসভার দায়িত্বের মাঝে পড়ে। কিন্তু তাদের নীরবতায় দীর্ঘদিন এখানে ময়লা-আবর্জনা রাখায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া বর্জ্যের আগুনে অনেক গাছ মরছে; আগুনের ধোঁয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে বর্জ্যের আগুনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী গাছগুলো পুড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি অবহিত নন দাবি করে ফেনীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

SHARE THIS ARTICLE