
আইরিশ বাংলাপোস্ট ডেস্কঃগত ২২শে মে ২০২১ শনিবার বাংলাদেশ সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, বিগত কয়েকযুগ ধরে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লিখা “পাসপোর্টটি ইসরায়েল ছাড়া পৃথিবীর সকল দেশের জন্য বৈধ (All countries of the world except Israel)” বাক্যটি পরিবর্তন করে নূতন সকল পাসপোর্টে “ইসরায়েল ছাড়া (Except Israel)” শব্দ দু’টি বাদ দিয়ে “পৃথিবীর সকল দেশের জন্য (All countries of the world) লিখিত হবে।
বাংলাদেশ সরকারের এই ঘোষণা ইসরায়েল কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি তাই এই দুটি শব্দের বিয়োগ ইসয়ারেয়েলের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের মনোভাবের কোন ধরনের পরিবর্তনের আভাস প্রদান করেনা। গত রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ছয় মাস আগে যখন ই-পাসপোর্ট চালু করি তখন পাসপোর্ট থেকে “ইসরায়েল ছাড়া” শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের পাসপোর্টের মান নির্ধারনের জন্য করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতি আমাদের বৈদেশিক নীতিতে কোন পরিবর্তন হবেনা এবং আমরা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছি না। আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করি। আমরা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকেও সমর্থন করি। সুতরাং, আমাদের বৈদেশিক নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।”
এদিকে ঢাকাস্থ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান “বাংলাদেশের নূতন পাসপোর্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের বৈধতা নিয়ে ঘোষণায় পরিবর্তনকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকার ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান। ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, “আমরা পাসপোর্টের পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত আছি। সব সার্বভৌম দেশের পাসপোর্ট বা অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। এগুলো মেনে নিয়েই বলছি, এই সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
“আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন” করার জন্যই বাংলাদেশের পাসপোর্টে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে-এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেন, “আপনি কি বলছেন যে গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখেনি। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ যারা পাসপোর্টে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করছে তাদের পাসপোর্ট কি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়?”
এ সময় সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলায়, ফিলিস্তিনিদের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন ও সহায়তার প্রশংসা করেন রামাদান। এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশি পাসপোর্টে এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল গিলাড কোহেন। রবিবার তিনি এক টুইটবার্তায় লেখেন, “বড় খবর! বাংলাদেশ ইসরায়েলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এটি স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ এবং আমাদের দু’দেশের মানুষের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসতে বলবো।”
এদিকে পাসপোর্টে নূতন এই পরিবর্তন নিয়ে দেশে বিদেশে বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ন রাজনৈতিক বুলি। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফসল এবং বাংলাদেশ সরকারের মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতবহ, যা ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের জেনারেল গিলাডের মন্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে। অতীতে বাংলাদেশীরা ইসরায়েলে যাওয়ার সুযোগ বঞ্চিত ছিলেন আর এখন ইসরায়েলে যেতে সরকারি কোন বাঁধা থাকলোনা। ইসরায়েল সরকারের ভিসা প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশের নাগরিকদের ইসরায়েল ভ্রমণে আর কোন সমস্যা থাকলোনা। অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সাথে আলোচনা এবং সম্পর্ক তৈরিতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যেহেতু ইসরায়েল বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভে আগ্রহী। তারা এখন সম্পর্ক স্থাপনে দূতিয়ালি করার সুযোগ তৈরি হলো। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কযুক্ত রাষ্ট্রটি এই ব্যাপারে জোর ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে রাখবে বলে অনেকেই মনে করছেন।।