
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আজ থেকে এক বছর আগে এই দিনে “আইরিশ বাংলাপোষ্ট” পত্রিকার আত্নপ্রকাশ ঘটেছিলো। হাঁটি হাঁটি পা পা করে সংবাদপত্রটি আজ এক বছর পূর্ণ করলো। সম্পুর্ন স্বেচ্ছাসেবী অনলাইন ভিত্তিক এই সংবাদপত্র ইতিমধ্যে আড়াই হাজারের মত সংবাদ, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা নিয়ে পাঠকের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এই সংবাদপত্রটি বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে গুরুত্ত্বপূর্ন সংবাদ সমূহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে গ্রহণ করে আইরিশ বাংলা পোস্টের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করেছে। কখনো কখনো ব্রেকিং নিউজ আকারে তড়িৎ সংবাদ পৌঁছে দেবার উদ্যোগ ও ছিল প্রতিবেদকদের। মহামারি সংক্রান্ত তথ্য, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশের পরিবর্তন সমূহের সংবাদকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। নিয়মিত না হলেও সময়ে অসময়ে বিষয়ভিত্তিক রচনা এবং কলামও প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকায়। এছাড়াও আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির সংবাদ গুরুত্ব সহকারে পরিবেশনে আন্তরিক ছিলেন এই পত্রিকাটির প্রতিবেদকগণ। সাহিত্যের অঙ্গন ছিল কবিতা, গল্প এবং ধারাবাহিক রচনায় পরিবেষ্টিত। পত্রিকাটিতে স্থানীয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিকগন তাদের লিখা পাঠিয়েছেন। ধীরে ধীরে পত্রিকাটির কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈচিত্র্য।
একটি সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে তার পাঠকবৃন্দ। পাঠকবৃন্দের পছন্দ অপছন্দের উপর নির্ভর করে সংবাদপত্রের মানের বিবর্তন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই পত্রিকাটি এখনো পাঠকদের সাথে প্রত্যক্ষ কোন যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে কিছু কিছু লিখনি সম্পর্কে পাঠকের মন্তব্য এবং সমালোচনা পত্রিকাটির লিখনির মানকে উন্নত করেছে বলেই আমরা মনে করি। আমরা আশা করি আগামী দিনগুলিতে আমাদের পাঠক সমাজের সাথে একটি যোগসূত্র সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আপনাদের সর্বাত্নক সহযোগিতা থাকলে এই মাধ্যম আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
অতীতের সংবাদ পরিবেশনের সাথে বর্তমানের সংবাদ পরিবেশনের একটা বৈপ্লবিক ব্যাবধান তৈরি হয়েছে। আধুনিক সময়ে ইন্টার্নেট গোটা বিশ্ব সভ্যতাকে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। ইন্টার্নেটের হাত ধরে সংবাদ পত্র ছাপার জগত থেকে ১৯৮০ সালে “কলম্বাস ডেসপাচ” নামে প্রথম একটি অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে নূতন ইতিহাস সৃষ্টি করে। এরপর যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের সাথে সংবাদবিশ্বও দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনের হাত ধরেই আইরিশ বাংলাপোষ্ট একটি সম্পুর্ন অনলাইন পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, একটি সংবাদপত্র, সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্ত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে। গুরুত্ত্বপূর্ন সংবাদের পাশাপাশি সমাজের অসংগতি, অন্যায় এবং অবৈধ কার্য্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকাও এই মাধ্যমের দায়িত্ব। বিশেষ করে সংবাদ পরিবেশনে সঠিক তথ্য নির্ভরতা এবং প্রকাশে পক্ষপাতিত্ত্বহীনতা অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন। আমরা জানি অসংগতি, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল। বিশেষ করে সামাজিক অসংগতি প্রকাশিত হলে অসহিষ্ণুতা প্রকাশিত হয়। সমালোচনা, বিতর্কের ঝড় উঠে। পৃথিবীতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে হাজারো সংবাদ কর্মী নিপীড়িত হয়েছেন এবং হচ্ছেন, আত্নাহূতি দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।
সংবাদ জগতে অনলাইন সাংবাদিকতা নূতন সংযোজন এবং এই বিষয় দ্রুতই বিবর্তিত হচ্ছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো মূলতঃ ডিজিটাল সংবাদপত্র, ব্লগ বা সোশ্যাল মেডিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করে থাকে। এসকল তথ্য উপাত্ত ইন্টার্নেটে অবাধে বিচরণ করে। অনেক সংবাদের উৎস বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিছু কিছু মাধ্যমে অসত্য এবং বিকৃত সংবাদ পরিবেশিত হয়ে আসছে। তাই তথ্য নির্বাচনে প্রতিটি প্রতিবেদক, সাংবাদিক এবং রচয়িতার অত্যন্ত দায়িত্বশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখনো এতটা স্বাধীন যে, কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই যে কোন ব্যাক্তি তার মতামত কিংবা তথ্য এই মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমের তথ্য ও রচনা ততটা গ্রহণযোগ্য হয়না কিংবা বস্তুনিষ্ঠ না হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা থাকে। অনলাইন পত্রিকার দায়িত্ব তাই অপরিসীম। সকল তথ্য পুর্নাংগ যাচাই বাছাই করে সুনিশ্চিত তথ্য পরিবেশন করাই সংবাদ পত্রের দায়িত্ব। তবে একথা অনস্বীকার্য্য যে অত্যন্ত দ্রুত সারা বিশ্বের সংবাদ এই অনলাইন পত্রিকাগুলো বর্তমানে পরিবেশন করতে পারছে। আমরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের সর্বাত্নক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি।
আইরিশ বাংলাপোষ্ট পত্রিকার সাথে যারা যুক্ত তারা কেউই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন নি। সম্পুর্ন ঐচ্ছিক, সমাজসেবা করার লক্ষ্য নিয়ে এই সংবেদনশীল এবং দায়িত্ত্বপূর্ন কাজে এগিয়ে এসেছেন আমাদের সদস্যবৃন্দ। প্রবাসীদের জন্য বাংলা ভাষার ব্যাবহার থেকে শুরু করে দ্রুত বস্তুনিষ্ঠ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, পাঠকদের সামনে উপস্থিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আয়ারল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি তথা সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সেবা প্রদানই আমাদের মূল লক্ষ্য। পাঠকদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে মূল সহায়ক শক্তি হবে। আমরা আশা করব পাঠকরাও এগিয়ে আসবেন আমাদের সহায়তায়। কমিউনিটি সংবাদ পরিবেশনে আমাদের সহায়তা করুন, আপনাদের সকল কর্মকান্ডে আমাদের সম্পৃক্ত করুন। কমিউনিটির যে কোন সদস্যের যে কোন ধরনের রচনা প্রকাশে আমরা আগ্রহী। রচনাগুলো মৌলিক এবং তথ্যসমৃদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এবারে একটি গল্প দিয়ে আমার বক্তব্যের সমাপ্তি টানতে চাই। একদিন সম্রাট আকবর তার সভাসদ সবাইকে ডেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন। প্রশ্নগুলো ছিলঃ
১। সকল ফুলের সেরা ফুল কোনটি? ২। কিসের দুধ সবচেয়ে উত্তম? ৩। কিসের মিষ্টত্ব সবচেয়ে উত্তম? ৪। কোন পাতা সবচেয়ে উত্তম? ৫। সবচেয়ে ভালো রাজা কে?
প্রশ্নগুলো শোনার পরে, রাজসভার প্রত্যেকে তাদের উত্তর দিয়ে রাজাকে খুশি করার চেষ্টা করেন।
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে কেউ গোলাপ, কেউ পদ্ম, কেউ কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি ফুলকে সেরা হিসাবে বললেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন গাভীর দুধ, কেউ বললেন মহিষের দুধ আবার কেউবা বললেন ছাগলের দুধের কথা কিন্তু সভাসদদের কেউই তাদের এই উত্তরের সন্তোষ জনক ব্যাখ্যা দিতে পারছিলেন না।
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন আখের রস, কেউবা বললেন ডালিম ফলের মিষ্টি আবার কেউবা বললেন ছানার রসগোল্লার কথা।
চতুর্থ প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন নীম পাতা আবার কেউ কলাপাতার কথা বললেন। আর পঞ্চম প্রশ্নের উত্তরে সকলে এক বাক্যে বাদশাহ আকবরের নাম উচ্চারণ করলেন। এই আলোচনার সময় বীরবল সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর বীরবল সভায় এসে উপস্থিত হলে বাদশাহ আকবর এই প্রশ্নগুলো বীরবলকে করলেন। বীরবলের উত্তর ছিল নিম্নরূপঃ
১। সকল ফুলের সেরা ফুল হচ্ছে কার্পাস (তূলা) ফুল কেননা এর তুলা থেকে কাপড় তৈরি হয়। এই তুলার কাপড় থেকেই বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি হয়। আর এই পোশাক পরিধান করেই আমরা লজ্জা নিবারণ করি।
২। পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা দুধ হচ্ছে মায়ের স্তন্য দুধ কেননা এই মায়ের দুধ পান করেই শিশুরা সুস্থ, সবল, বর্ধীষ্ণু ও মেধাবী হয়।
৩। মিষ্টান্নের মধ্যে যতটা না মিষ্টি আছে তার চেয়ে অনেক বেশী মিষ্টি আছে আমাদের জিহ্বায়, আমাদের কথায় যদি আমরা মিষ্ট কথা বলতে পারি। আমাদের মিষ্ট কথা অন্যদের আনন্দ দেয়, সুখী করে তুলতে পারে। তাইতো আমার মা বলে থাকেন, কথা বলো নরম সুরে আর ভদ্রভাবে কেননা সকলেই নরম ভদ্র কথাকে ভালোবাসে, পছন্দ করে।
৪। তিনি বললেন, পাতার মধ্যে পান পাতাই শ্রেষ্ঠ কেননা এই পান খেয়ে এমনকি শত্রুও বন্ধু হয়ে যেতে পারে।
৫। সকল রাজার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা হচ্ছেন ইন্দ্র, কেননা তার কথায় বৃষ্টি হয় আর বৃষ্টির পানিতে সকল ধরনের উদ্ভিদ আর ফসল বেড়ে উঠে। কৃষকের ফলন ভালো হয় তারা আমাদের জন্য ভালো খাদ্য সরবরাহ করতে পারে। তিনি বাদশাহ আকবরকে খুশী করার কোন চেষ্টাই করেন নাই।
বুঝতেই পারছেন বীরবলের প্রতিটি উত্তরের মধ্যে গ্রহণযোগ্য যুক্তি এবং ব্যাখ্যা ছিল যার কোনটিই অগ্রাহ্য করার মত যুক্তি কিংবা তত্ত্ব আর কারো নিকট ছিলনা। বাদশাহ আকবর বীরবলের উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন।
এবারে সম্মানিত পাঠকগণ, আমরা আপনাদের নিকট থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই আর প্রশ্নটি হচ্ছে আপনাদের নিকট কোন পত্রিকা সবচেয়ে উত্তম মনে হয়?
পরিশেষে আইরিশ বাংলাপোষ্ট পত্রিকা আপনাদের সেবায় দীর্ঘজীবি হোক এই প্রার্থনা থাকলো।