
আইরিশ বাংলাপোস্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন পর মার্কিন হোয়াইট থেকে ঘোষণা এসেছে, আগামী নভেম্বর থেকে আয়ারল্যান্ড সহ যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর অধিকাংশ দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে টিকা দেওয়া যাত্রীদের আমেরিকা প্রবেশের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।
এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ১৮ মাস আগে কোভিডের কারণ দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল অধ্যাদেশের মাধ্যমে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সমাপ্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের সাথে ইউরোপের শেঙ্গেনভুক্ত ২৬টি দেশ, যুক্তরাজ্য, চীন, ইরান, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতের নাগরিকদের জন্যও এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমান নীতির অধীনে, শুধুমাত্র যারা মার্কিন নাগরিক, তাদের নিকটবর্তী পরিবার, গ্রিন কার্ডধারী এবং যাদের জাতীয় স্বার্থে ছাড় (NIE) আছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন যদি তারা পূর্ববর্তী দুই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য বা ইইউতে থেকে থাকেন। হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস প্রতিক্রিয়া সমন্বয়কারী জেফ জিয়েন্টস সোমবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ফ্লাইটে ওঠার আগে সম্পূর্ণ টিকা দেওয়ার প্রমাণ এবং ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিগেটিভ পি সি আর পরীক্ষার প্রয়োজন হবে। আমেরিকা আসার পর তাদের কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন হবে না।
ভ্যাকসিন নীতিমালায় কিছু ব্যতিক্রম থাকবে, যার মধ্যে এখনও টিকা দেওয়ার যোগ্য নয় এমন শিশুরা অন্তর্ভুক্ত আছেন। মেক্সিকো এবং কানাডার সীমান্ত অতিক্রমকারী ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন নিয়ম এখনও প্রযোজ্য নয়। জিয়েন্টস জানান, “এই নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থা আমেরিকানদের এবং আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণকে নিরাপদ রাখার জন্য বিজ্ঞানের তথ্য প্রমাণকে অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বিদেশী নাগরিকদের সম্পূর্ণভাবে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে এবং অতিরিক্ত কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এখানে আমেরিকানদের সুরক্ষা করব এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নিরাপত্তা বাড়াব। এটি দেশ ভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যক্তির উপর ভিত্তি করবে।”
এয়ারলাইন্স এবং ট্রাভেল পার্টনারদের নতুন প্রটোকল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির সময় দেওয়ার জন্য নতুন নীতি নভেম্বরের প্রথম দিকে কার্যকর হবে। ফসেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) একটি কন্টাক্ট ট্রেসিং অর্ডার জারি করবে যা এয়ারলাইন্সগুলিকে আমেরিকায় ভ্রমণকারীদের নিকট থেকে একটি ফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে চীন থেকে আসা ভ্রমণকারীদের উপর প্রথমে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন এবং পরবর্তী মাসগুলিতে এই নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য দেশে প্রসারিত করেছিলেন। তখন এই নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য আরোপ করা হয়েছিলো। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ বছরের এপ্রিলে ভারতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যোগ করেন, যার ফলে বেশিরভাগ নন আমেরিকান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এই সময় তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ট্রাম্পের পরিকল্পনাকেও উল্টে দেন। জো বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপে ক্রমবর্ধমান হতাশার সৃষ্টি করে, বিশেষ করে আমেরিকায় টিকা দেওয়ার হার ধীরে ধীরে বেড়ে যাবার পরে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ছিল হতাশাব্যাঞ্জক।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন কোভেনি জো বাইডেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আয়রল্যান্ডের বেশীরভাগ নাগরিকদের জন্য স্বস্তির সংবাদ কেননা দীর্ঘদিন পর তারা তাদের আত্নীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের দদেখার সুযোগ পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ দা গার্ডিয়ান, বি বি সি, আইরিশ টাইমস