আবারো উত্তাল নোয়াখলীর বসুরহাট, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ১, কারফিউ জারি

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আবারো উত্তাল নোয়াখলীর বসুরহাট।নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন (৩০)। তিনি চারকালী গ্রামের মইনুল হকের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর রাতে পৌর ভবনের সামনে সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেলমেট পরিহিত প্রতিপক্ষের ১০-১২ জন সেখানে এলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। মারা যান আলাউদ্দিন।

মেয়র কাদের মির্জার সমর্থকদের ভাষ্য, মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাতে গুলি ছোড়ে বাদল, রাহাতের সন্ত্রাসীরা। এতে মেয়রের অর্ধশতাধিক সমর্থক আহত হয়েছে।

মেয়রের প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বলেন, মেয়রের সন্ত্রাসীরা তাঁর সমর্থকদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে তাঁর সমর্থক আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ওসি জাহিদুল হক রনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহত হয় অন্তত ২০ জন।

বসুরহাট বাজারে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৪৪ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এর আগেও গত ২২ ফেব্রুয়ারি বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছিল।  

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীর। 

তিনি বলেন, উপজেলা আ.লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশংকায় বুধবার (১০ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে।

এ আদেশ চলাকালে পৌর এলাকায় ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণ জমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র‌্যালি, শোভাযাত্রা, যে কোন ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে পৌর শহরে ৪ জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না।

SHARE THIS ARTICLE