
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ইমরান খানের অপসারণের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পিএমএল-এন নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরীফ। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় পরিষদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন।
তার নেতৃত্বেই ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিতে একাট্টা হয় বিরোধী দলগুলো এবং বিরোধীরা শাহবাজকে প্রতিশ্রুতি দেয় তাকেই প্রধানমন্ত্রী বানাবেন। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হলেন শেহবাজ শরীফ।
ইমরান খানের মতো জনপ্রিয় নেতাকে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া এই শাহবাজ শরীফ কে? কি তার রাজনৈতিক পরিচয়?
শাহবাজ শরীফ রাজনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময় তার ভাই নওয়াজ শরীফের প্রভাবের ছায়াতেই ছিলেন।
১৯৫১ সালে জন্ম নেয়া শাহবাজ শরীফ রাজনীতিতে যোগ দেন আশির দশকে, যখন তার ভাই নওয়াজ শরিফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। লেখাপড়া শেষে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন তিনি।
রাজনীতিতে সবসময়ই বড় ভাই নওয়াজ শরিফের ছায়াতলে দ্বিতীয় সারির ভূমিকায় থেকেছেন শাহবাজ শরিফ। বড় ভাই যখনই প্রধানমন্ত্রী হন শাহবাজ শরিফ হন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি তিন দফায় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার কাজ তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
১৯৯৭ সালে প্রথমবার মূখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশারফ ক্ষমতা দখল করলে শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবে পালিয়ে যান। আট বছর সৌদিতে নির্বাসিত থাকার পর ২০০৭ সালে তিনি পাকিস্তানে ফেরেন।

২০০৮ সালে তার দল জয় পেলে ফের তিনি পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালে তৃতীয়বার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাব থেকে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রের রাজনীতিতে যোগ দিতে মনস্থ করেন শাহবাজ শরীফ। তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচনে মুসলিম লিগ-নওয়াজ হেরে গেলে তাকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বানানো হয়।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলা তার বিরুদ্ধেও হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হননি তিনি।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করার সময় নিজেকে খাদিম-ই-আলা বা প্রধান সেবক হিসেবে পরিচয় দিতেন শাহবাজ শরীফ। নিজেকে তার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে নাকি ভালো লাগে না।
পাকিস্তানে পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত শাহবাজ শরীফ। মিয়া মোহাম্মদ শরীফের দ্বিতীয় সন্তান তিনি। তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তাদের যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ইত্তেফাক গ্রুপ অব কোম্পানিজ। লাহোর চেম্বার অব কমার্সের ১৯৮৫ সালের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথম পাঞ্জাবের রাজ্যসভায় এমপি হিসেবে নির্বাচন করেন।
১৯৯০ সালে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ খুলেছেন তিনি। মন্দের ওপর ভালোর জয় হয়েছে জানিয়ে ইমরান খানের ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ দাবিকে ‘ড্রামা’ বলে অভিহিত করেছেন শাহবাজ শরীফ।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, আমরা বিদেশি শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করেছি- এমন প্রমাণ থাকলে, আমি অবিলম্বে পদত্যাগ করবো।
সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়ের পক্ষ নেওয়ায় আমি পাকিস্তানের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। একটি চিঠি ও বিদেশি চক্রান্তের বিষয়ে প্রচুর মিথ্যাচার হয়েছে; যা এখনও উপস্থাপন করা হয়নি। আজ আল্লাহ পাকিস্তান ও দেশের ২২ কোটি মানুষকে রক্ষা করেছেন। এই প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব সফলভাবে পাস হলো। এ দিবসটি দেশের মানুষ উদযাপন করবে।
এর আগে, নিজের দল মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর পাশাপাশি পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমলসহ বেশ কয়েকটি দলের সমর্থন পেয়েছেন শাহবাজ।