
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিতেন্দর গোগিসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকাল উত্তর দিল্লির রোহিনীর একটি আদালতে এ ঘটনা ঘটে, যা দেশটির আদালতগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত শুনানিতে দুজন বিচারক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামি জিতেন্দরসহ ছিলেন বেশ কয়েকজন আইনজীবীও। হামলাকারীরা আইনজীবীদের পোশাক পরেই আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। হামলাকারীরা জিতেন্দরকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি ছোড়েন।এ সময় আসামিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে দুই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। গোলাগুলিতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এ বিষয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা বলেন, হামলাকারীরা গুলি চালানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। তাছাড়া গুলিবিদ্ধ জিতেন্দরকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলাকারীরা কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আদালত কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, মেটাল ডিটেক্টর যন্ত্রগুলো ঠিকমতো কাজ করছিল কিনা সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সে কারণে এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন। দিল্লি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো ঘটনার বিশ্লেষণ করছে বলেও জানান তিনি। নানা অপরাধে জড়িত ৩০ বছর বয়সী জিতেন্দর গোগির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি হুমকি, ডাকাতিসহ আরো অসংখ্য অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। গত বছরের মার্চে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল তাকে গ্রেফতার করে। তিনি তিহার কারাগারে বন্দি ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রতিপক্ষ টিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল তার ওপর হামলা চালায়।
গোগি গ্যাং ও টিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ অনেক পুরনো।দুই পক্ষের বিরোধে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত ২৫ জনের।তবে গতকালের এ ঘটনাকে দুদলের মধ্যকার যুদ্ধ বলতে রাজি নন পুলিশ কর্মকর্তারা।