
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ রাশিয়া স্বীকার করেছে যে, দেশটিতে করোনভাইরাস মৃতের সংখ্যা আগের রিপোর্টের চেয়ে তিনগুণ বেশি হতে পারে। নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে রাশিয়ায় ১,৮৬০০০ এরও বেশী মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে থাকতে পারেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই সংখ্যা ৫৫, ২৬৫।
যদি এই পরিসংখ্যান গৃহীত হয়, তাহলে দাঁড়াবে যে, রাশিয়া কোভিডের কারণে বিশ্বে মৃতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক অবস্থানে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের পরেই হবে তাদের অবস্থান। বর্তমানে ভারত মৃত্যুর পরিসংখ্যানে এই তৃতীয় অবস্থানে আছে।
মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ত্রিশ লক্ষেরও বেশি সংক্রমণের কথা জানিয়েছে তবে তুলনামূলকভাবে মৃত্যুর হার কম দেখে অনেকেরই ভ্রুকুঞ্চিত হয়েছিলো। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন যে দেশটি মহামারী ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে, তবে অন্যরা বলেছেন যে দেশটিতে পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ময়না তদন্তের কোভিড-১৯ কে মৃত্যুর মূল কারন হিসেবে উল্লেখ থাকা বাঞ্ছনীয় থাকায়, অনেক মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি।
সংবাদ সংস্থা এ এফ পির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার সরকারী পরিসংখ্যান সংস্থা রোস্টস্টাট জানিয়েছে যে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে সমস্ত কারন থেকে মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৯, ৭০০ বেড়েছে। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা বলেছেন যে এই “৮১% এরও বেশি” মৃত্যুই কোভিড-১৯ এর কারণে হয়েছিল, যার অর্থ এই সময়টিতে ১৮৬,০০০ এরও বেশি রাশিয়ান মহামারীতে মারা গিয়েছেন। এই সংবাদের প্রতিফলন অবশ্য এখনও রাশিয়ার কোনও সরকারী করোনভাইরাস পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়নি।
রাশিয়ায় কোভিড-১৯ এর কারণে বিধিনিষেধ অনেক দেশের তুলনায় কম এবং মিঃ পুতিন বলেছেন যে সবাই যদি নিয়ম মেনে চলে তবে ইউরোপের মত কঠিন লকডাউন প্রয়োজন হবে না। অন্যান্য অনেক দেশের মতো, রাশিয়ার নিজেদের তৈরী স্পুটনিক ভি টিকার সফলতার ব্যাপারে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে টীকা প্রদানের প্রাথমিক কর্মসূচিতে ১৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মী যাদের কোন ধরনের ক্রনিক রোগবালাই নেই তাদেরকে টিকা দেয়ার জন্য আহবান করা হয় তবে গত সপ্তাহের শেসের দিকে ৬০ বছরের বেশীদের ও ডাকা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৭০০,০০০ ডোজ অবমুক্ত করা হয়েছে, তবে ইতিমধ্যে কতজন লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে তার কোনও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্পুটনিক ভি ভ্যাক্সিনের সফলতা এবং কার্য্যকারিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে সন্দেহ আছে।

অনেকেই মনে করেন, কোভিড মহামারিতে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে প্রদর্শিত সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আরও অনেক বেশী হবে।
তথ্যসূত্রঃ স্কাই নিউজ