
এ,কে, আজাদ- আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ফেনী জেলার আলোচিত আশি দশকের তুখোড় ছাত্র নেতা, ফেনী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আজহারুল হক আরজুর মৃত্যুতে ফেনীজুড়ে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। তার এ আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফেনীর রাজনৈতিক, সামাজিক অঙ্গন সহ সর্বস্তরের জনগণের মাঝে। দলমত নির্বিশেষে শোক জানাচ্ছেন ফেনীর আলোচিত এ আওয়ামী লীগ নেতার প্রতি।

শুক্রবার (৫ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সদস্য আরজু। ইন্না নিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। ২০১৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

দুপুরের দিকে তার লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি ধর্মপুরে এলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্খীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে ধর্মপুরের বাতাস। তাকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে মানুষের ভিড় নামে ধর্মপুর ইউনিয়নের জোয়ার কাছাড় গ্রামে। গতকাল বিকাল ৫টায় ইউনিয়নের বটুয়া দিঘীর পাড় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। লক্ষাধিক চোখেরজলে বিদায় নিলেন এম. আজহারুল হক আরজু।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শোক প্রকাশ করেছেন ফেনীর সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন হাজারী। কথিত আছে আরজু ছিলেন জয়নাল আবেদিন হাজারীর একান্ত ঘনিষ্ট জন। ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী,
ফেনী-৩ আসনের সাংসদ লে: জেনারেল (অব): মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা মরহুমের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

শোক জানিয়েছে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আজ আরজুময়। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
এডভোকেট শাহজাহান সাজু লিখেন, দীর্ঘদিনের এই সহযোদ্দার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে ব্যাথিত,মর্মাহত, শোকাহত।মহান আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন। প্রিয় বন্ধু আরজুর নামাজে জানাজা ও কবরে শেষ বিদায় জানিয়ে ফেসবুকে জনাব সাজু লিখেন, আমার দীর্ঘদিনের প্রিয় বন্ধু, সহকর্মী, সহযোদ্ধা, রাজপথে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের সারথী, জেলখানার জেলমিট, আরজু ভাই কে, বিদায় বন্ধু, চীর বিদায়।আর কি দেখা হবে জীবনে?
শোক প্রকাশ করেছেন ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী লিপটন, পরশুরাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জহির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী লিপটন তার ফেইসবুকে লিখেন, জেলা আওয়ামীলীগ এর সাবেক সদস্য মুজিব রনাঙ্গনের বীর সেনানী ৯০ এরশাদ ৯৬ খালেদা নিজামী জোট বিরোধী আন্দোলনের অগ্র সেনানী আজহারুল হক আরজু ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে শোক জানানোর ভাষা শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।
তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিক বখতেয়ার মুন্না ফেইসবুকে লিখেন, আমি কোন পক্ষ বিপক্ষ বুঝিনা। বুঝি একটাই স্বৈরচার এরশাদের বন্দুকের নলের মুখে থাকা আমার জীবন যুদ্ধের সহযোদ্ধাদের আমি কখনও ভুলতে পারিনি পারবোও না। তাদের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলেও ভালোবাসার সম্পর্ক তো আর ছিন্ন হয়নি। অকালে অবেলায় একগুয়ে আপোষহীন আরজুর চলে যাওয়া মেনে নেয়া বড় কঠিন।
সাবেক সাংসদ হাজী রহিম উল্লাহ শোক প্রকাশ করে লিখেন, এম আজহারুল হক আরজু জামাত বিএনপি জোট সরকারের সময় ফেনীতে সফল রাজপথ কাপানো নেতা ছিলেন। নিজ দলীয় সরকারের সময় স্বদলীয় প্রতিপক্ষের চরম হেনস্তার শিকার হয়ে অনেক বার জেল খেটেছিলেন। অথচ এক সময় আরজুদের শ্রম আর ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত আজকের ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ।

অপ্রত্যাশিত এ মৃত্যু ফেনীর অপরাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বলছেন বিতর্কিত বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। আরজু মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনিও।