
আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখে একটু ভালো লেগেছে যে, তার মুখে একটু হাসি দেখেছি। যেটা এই কদিন ছিল না, একেবারেই ছিল না। চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনেছি, তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন এখন বেশ ভালো, টেম্পারেচার নেই, শ্বাসকষ্টও নেই। তবে পোস্ট কোভিড জটিলতায় তার হার্ট ও কিডনি অ্যাফেক্টেড। এটা নিয়ে চিকিৎসকরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, চিন্তিত।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম, রুহুল আমিন গাজী এবং নিপুণ রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি চাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, উন্নত দেশে এ ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে, যেগুলোর মাধ্যমে তার চিকিৎসা সম্ভব, যেটা এই দেশে নেই। সে কারণে বারবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের সরকার আবেদনে সাড়া দেয়নি। তারা মনে করে, খালেদা জিয়া যদি দেশের বাইরে যান, তাহলে আবার তিনি তাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করবেন। ভয়টা কেন, এ কারণেই এ দেশের জনগণের যে নেতা, সেটা খালেদা জিয়া। তিনি গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়স্থল।
বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন তার অবস্থা ‘মনিটর’ করে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তারা আমেরিকা ও ইংল্যান্ড- দুই দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার সাংবাদিকদের শিক্ষা দিতে চায় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সরকার সব সাংবাদিকদের শিক্ষা দিতে চায় যে বেশি লাফালাফি করা যাবে না। এ দানব সরাতে হবে, দেশকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে রোজিনা ইসলামকে জামিন দিতে দেরি করা হচ্ছে। এ বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রাখতে হবে? আওয়ামী লীগ সরকারের কালচারটাই হলো শুধু মামলা করো। অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানোর মাধ্যমে মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সাংবাদিক ভাই-বোনদের আহ্বান জানাব, আসুন আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হই। তাহলে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। তিনি বলেন, আপনারা যে ঐক্য গড়েছেন তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এ ঐক্য কতক্ষণ রাখতে পারেন সেটাও দেখার বিষয়।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, মহিলা দলের নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী, নেওয়াজ হালিমা আরলী, নিলোফার চৌধুরী মনি প্রমুখ।